|| নিলডাউন, শশাঙ্ক আর প্রসিতদা... ||
আমি কেলো করার রাজা ছিলাম, ইচ্ছাকৃত বা স্বাভাবিক ভাবেই, অনেকেরই হয়তো গোল্ডেন জুবিলীর রকেট কান্ড মনে থাকবে 😬|
একবার, সেরকমই কিছু একটা কেলো করেছি, বাসবদা আমাকে হেডমাস্টার অশোকদার কাছে পাঠাবেন বলে বার্সার এর সামনে নিলডাউন করিয়েছেন | এমন সময়, প্রাসিতদা পাশদিয়ে যেতে যেতে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কি করেছিলে?" বললাম, স্যার কিছু না বলে বাসবদার ঘরে ঢুকে কথা বললেন| বেরিয়ে এসে বললেন, "আমার সাথে এস|"
ওপরের বারান্দা থেকে ওনার পিছু পিছু, নিচে অঙ্কর ডিপার্টমেন্টের পাশ দিয়ে স্কুল এর মেনগেট অব্দি পৌঁছতেইতো আত্মারাম খাঁচাছাড়া! বেশ ছিলাম নিলডাউন হয়ে, এতো দেখি ডাইরেক্ট অশোকদার ঘরের দিকে নিয়ে চলেছেন! প্রাসিতদা কিন্তু দেখি নেমে পিচ রাস্তার দিকে চলেছেন, হাত নেড়ে ডাকলেন| দুবার কি ডাকতে হয়? তড়াক করে সিঁড়ি ডিঙিয়ে ওনার পেছনে পেছনে আমবাগানে পৌঁছলাম |
বসলাম স্যার এর পাশে, উনি বললেন, "দুস্টুমি আমরাও করেছি ছেলেবেলায়... শুনেছি তোমার বাবা এয়ারপোর্টে চাকরি করেন রাত জেগে, এখন হেডমাস্টারের ফোন গেলে নরেন্দ্রপুর ছুটে আসতে হতো, ব্যাপারটা ভালো হতো কি?"
তারপর প্রসিতদা শুরু করলেন বাঙালির কথা, ওনার মুখে গৌড়বঙ্গের শশাঙ্কের কথা শুনছি আর মন চলে গেছে কোন সুদূরে | পরে স্যার নিজে সেন্ট্রাল লাইব্রেরি নিয়ে গেছিলেন, ভারী কাঁচের চশমা পড়া শিশিরদা এনে দিয়েছিলেন শরদিন্দুর ঐতিহাসিক উপন্যাস এর এক খন্ড|
সেদিন প্রসিতদা একটা দুস্টু, ফেল্টু ছেলেকে শুধু গার্ডিয়ান কল এর হাত থেকেই বাঁচাননি ... স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছিলেন! তাকে দিয়েছিলেন অহংকার বোধ, নিজের সংস্কৃতির প্রতি ... লোক দেখানো আদর না করেও, দিয়েছিলেন শান্ত প্রশ্রয়, কৈশোরের উদ্দীপনাকে|
আজ সেই লোকটির বড়ো দুঃসময়, সেই দুস্টু ছেলেগুলো কি পাশে দাঁড়াবে না?