Sunday, August 5, 2018

আমি চলি ডালে-ডালে, তিনি চলেন পাতায়-পাতায়...

|| আমি চলি ডালে-ডালে, তিনি চলেন পাতায়-পাতায়...||

শুক্রবার অফিস ফেরতা একটা সুপারমার্কেটে গেছিলাম, টাকা দিয়ে জিনিস নেবার সময় একটা জিনিস ভুলে গেলাম|  যথারীতি, মনে পড়ার পরে, শনিবার তাদের ফোন করলাম যে কেউ ফেরত দিয়েছে কিনা, বয়ষ্কা ডাচ মহিলা আমাকে হাঁকিয়ে দিলেন, বললেন ফোনে এসব করতে পারবো না, দোকানে এস তখন দেখা যাবে! মনটা তিক্ত হয়ে গেলো, আগে নিউয়র্কে বা বোম্বেতে যেখানে থাকতাম এরকম  ব্যবহার পাইনি, তারা বলে দিতো পেয়েছে কি পায়নি| মার্কেটিং এর ছেলে, চিরকালই কাজ বাগিয়ে আনতে পারি, তাই মনে হলো হেরে যাচ্ছি| মহিলাকে বোঝালাম যে আমি তোমার দোকানে না হয় গেলাম, কিন্তু যাবার পর তুমি যদি বোলো না এমন কিছু পাইনি তখন তো আমার যাওয়াটাই বৃথা হবে! যাই হোক, মহিলা কান দিলেন না, নামটা জানলাম অভিযোগের অভিপ্রায়ে| শনিবার কাটলো বাড়ির কাজ আর ল্যাদ খেয়ে| রোববার বিকেলে পৌঁছলাম দোকানে, সে মহিলার খোঁজ করলাম... তিনি নেই! ম্যানেজার ছেলেটিকে বললাম ব্যাপারটা, সে প্রথমে শুনেটুনে রশিদটা নিয়ে বললো, আপনার মতো সবাই ই বলতে পারেন যে দোকানে ফেলে গিয়েছেন আর নতুন একটা চান! কথাই যুক্তি আছে, আমি বললাম যে, দেখো যখন ২৫ ইউরোর জিনিস নিয়েছি তখন কি ৩ ইউরোর জন্য জাল করবো? তুমি দ্যাখো কেউ ফেরত দিয়েছে কিনা আর আমি অন্য বাজার করে ফেরার পথে একবার খোঁজ নিয়ে যাচ্ছি| বাজার শেষে সেই ছেলেটির কাউন্টারএ দাঁড়ালাম, সে জিজ্ঞেস করলো আমি আজকের বাজারের টাকা দিয়েছি কিনা, বললাম দিয়েছি| সে দেখিয়ে দিলো আর এক কাউন্টার, বললো সেখানে যেতে ... এবার মন আবার বিরক্ত হলো, আবার এক কথা নতুন করে ঘ্যান ঘ্যান কীর্তি হবে, দুৎত্তেরি! মহিলার কাছে গিয়ে সবে বলতে শুরু করবো এমন সময় তিনি বললেন, কি জিনিস? বললাম, মহিলা সেই ছেলেটিকে আনতে পাঠালেন, সে ছোঁড়া একজাতীয় কিন্তু ভুল জিনিস আনলো! আমি কিছু বলার আগেই মহিলা সেটা ফেরত পাঠালেন, ঠিক জিনিস এলে, আমাকে ইংরেজিতে জন্যবাদ জানালেন| চলে যাচ্ছিলাম, কি মনে হলো, মহিলাকে জিজ্ঞেস করলাম, কেউ কি ফেরত দিয়েছিলেন শনিবার? তিনি বললেন, না এটা দোকানের তরফ থেকে আপনাকে দেওয়া হলো| করুনা, তাও আবার ভারতীয় ITর ছেলেকে? আমি গম্ভীর গলায় বললাম যে এটা ফিরিয়ে নিন, আমি দান চাইনি শুধু কেউ ফেরত দিয়ে থাকলে তাই চেয়েছি! আমাকে অবাক করে মহিলা বললেন, আপনাকে তো মানুষ হিসেবে চিনি তাই আপনি যখন বলছেন যে ফেলে গেছেন সেটাই যথেষ্ট| মাথার পারদ এখনো নামেনি, বললাম, আপনি আমাকে কি করে চেনেন?


উনি বললেন যে, আপনি প্রায়ই আমার পার্টনারকে (জীবনসঙ্গি) সাহায্য করেন| বলে আঙুল তুলে দেখালেন,  ... তাকিয়ে দেখি, আমার বাড়ির গলির শেষের বাড়ি থেকে যে মহিলা বেরোন রোজ ওয়াকার নিয়ে, তিনি দাঁড়িয়ে হাস্যমুখে! আমার নিজের মাও ওয়াকার নিয়ে হাঁটে, এই ভেবে ওনার গাড়িতে শুধু ওয়াকারটা মাঝে মাঝে তুলেদি, উনি ভেতরে বসলে... তাও যদি বা দেখা হয় অফিসএ যাবার সময়!


এই অহেতুক রাগ আর বিরক্তির জন্য বড়ো লজ্জা লাগলো| বিচিত্র এ পৃথিবী! কবি ঠিকই বলেছেন, মানুষের ওপরে বিশ্বাস হারানোই পাপ!


- চিরন্তন

No comments:

Post a Comment

💀ভূত চতুর্দশী ও বাঙালী আচার বিচার 👻

  ভূত চতুর্দশী হচ্ছে বাংলার একটি প্রাচীন আদিবাংলা হিন্দু উৎসব, যা মূলত কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে (অমাবস্যার ঠিক আগে) পালিত হ...